লারিজানি হত্যাকাণ্ডে হামাসের তীব্র নিন্দা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিশোধের আগুন
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেমানি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এক বিবৃতিতে হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ কেবল ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র। হামাস ইরানি জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
গত ১৬ মার্চ রাতের হামলায় লারিজানির মৃত্যু ইরানের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। তিনি ছিলেন দেশটির পরমাণু নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্থপতি। দীর্ঘ ১২ বছর পার্লামেন্ট স্পিকার এবং সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লারিজানিকে তেহরানের ‘পলিটিক্যাল ব্রেইন’ বা রাজনৈতিক মস্তিষ্ক বলা হতো। চীন-ইরান ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি এবং পরমাণু আলোচনায় তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। খামেনির মৃত্যুর পর চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে লারিজানির অভিজ্ঞতা ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে রণমূর্তি ধারণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। লারিজানি হত্যার ‘রক্তের বদলা’ নিতে ইসরায়েলের তেল আবিবে জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই হামলায় ২ জন নিহত এবং ১৯২ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) তেহরানে দুই নেতার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। লারিজানির অনুপস্থিতি ইরানের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কৌশলে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।