লারিজানি হত্যা কি ইরানের জন্য বড় বিপর্যয়? ইসরায়েলি সফলতার নেপথ্যে কী?

 

লারিজানি হত্যাকাণ্ড: ইসরায়েলের দৃষ্টিতে এটি বড় ধরনের ‘কৌশলগত সাফল্য’

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার দাবিটি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে একে চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ‘কৌশলগত সাফল্য’ হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। বুধবার (১৮ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, লারিজানি ছিলেন ইরানের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান মস্তিষ্ক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর লারিজানিই কার্যত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে আহত অবস্থায় রয়েছেন। এই নাজুক সময়ে লারিজানির মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বকে সরিয়ে দেওয়া ইসরায়েলের জন্য বড় অর্জন। বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানি নিহত হলে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের যোগাযোগ স্থাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে, যা তেহরানকে কূটনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করতে পারে।

তবে লারিজানির মৃত্যুতে ইরানের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে তৈরি যে এটি কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। একাধিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এই কাঠামো গঠিত হওয়ায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু সত্ত্বেও ইরান তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম। তবুও লারিজানির অভাব ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিকল্পনায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে, যা ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের জন্য এক বিশাল জয় হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post