তেহরানে ইসরায়েলের বড় হামলা; নিহত হলেন ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি!

 

ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের: নক্ষত্রপতন তেহরানে

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং দেশটির রাজনীতির অন্যতম প্রধান কারিগর আলী লারিজানি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। গত সোমবার রাতে তেহরানে চালানো এক বিশেষ অভিযানে লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। তবে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া লারিজানি ছিলেন ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর এক ‘শান্ত ও বাস্তববাদী’ মুখ। তাঁর পরিবারকে প্রায়ই ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ বলা হতো। তিনি কেবল একজন ঝানু রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং দর্শনশাস্ত্রে পণ্ডিত এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারের সন্তানও ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আইআরজিসি-তে যোগ দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রধান এবং টানা এক যুগ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশেষ করে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, লারিজানিই ছিলেন ইরানের বর্তমান যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব পদে ফিরে আসেন। লারিজানির মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তা হবে ইরানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের এক বড় মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা।

Post a Comment

Previous Post Next Post