ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব: ইরানের জন্য শর্ত ও সম্ভাব্য সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মূলত এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
কঠোর শর্তাবলি: প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা চিরতরে নির্মূল করা। এর মধ্যে রয়েছে:
নাতাঞ্জ ও ফোরদোসহ সব পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করা।
হরমুজ প্রণালি সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং একে মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করা।
ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা।
বিনিময়ে ইরানের সুবিধা: ইরান যদি এই শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং ভবিষ্যতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান রণাঙ্গন ও অনিশ্চয়তা: যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়েছে, তবে বাস্তবে ইরান ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। এছাড়া ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে মোজতবা খামেনির জনসম্মুখে না আসা ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে এক ধরনের রহস্য ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে শান্তি প্রস্তাব সামনে থাকলেও যুদ্ধের ময়দান এখনো উত্তপ্ত।