যুদ্ধ বনাম আলোচনা: ইরান কি এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ২৬তম দিনে এসে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ইরানকে বেশ শক্ত অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। যদিও পেন্টাগন দাবি করছে যে তাদের হামলায় ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তেহরান এখনো ইসরায়েলের ডিমোনা ও আরাদ শহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে।
আলোচনার টেবিলে নতুন শর্ত: বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছে। তেহরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত নতুন শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ, ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না এমন লিখিত নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নতুন আন্তর্জাতিক নিয়ম। এছাড়া কাতার ও ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনে ইরান বিশ্ব তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা তাদের দরকষাকষির ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বাস ও সংকটের দেয়াল: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের দাবি করলেও ইরানি কর্মকর্তারা একে ‘তেলের দাম কমানোর ভুয়া প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। মিশর, তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে, অন্যদিকে ইরান চাইছে নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতি। আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই দুপক্ষই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।