ইরানের ‘লো-কস্ট’ ড্রোন ও মিসাইল যুদ্ধ; বিপাকে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এক নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী উচ্চ আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রাখলেও নিচু উচ্চতা দিয়ে উড়ে আসা ইরানের সস্তা ড্রোন ও ভ্রাম্যমাণ মিসাইল মোকাবিলায় রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমানবাহিনী। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচু আকাশসীমার এই হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের ঘাটতিই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বনাম ট্রাম্পের দাবি: ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্টিমসন সেন্টার’-এর ফেলো কেলি গ্রিকো জানান, ইরান সরাসরি আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা না করে ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ (War of Disruption) চালাচ্ছে। ইরানের তৈরি কম খরচের শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে লাখ লাখ ডলারের দামী ‘ইন্টারসেপ্টর’ মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতে, এই ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা কঠিন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন তেহরানের আকাশে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
অস্ত্রের মজুত ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিত্র দেশগুলোর (সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডান) কাছে ড্রোন বিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত এতটাই কমে এসেছে যে তারা এখন বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি ভিত্তিতে এসব দেশে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের কৌশল হলো এই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল করে তোলা, যাতে খরচ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্লান্ত করে দেওয়া যায়।