আরব আমিরাত কি তবে ইরানের পরবর্তী টার্গেট? আবুধাবিকে তেহরানের চরম হুঁশিয়ারি

 


সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি; সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, আরব আমিরাত এই যুদ্ধে শুধু মার্কিন ঘাঁটিই সরবরাহ করছে না, বরং তারা সক্রিয়ভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানে কোনো ধরনের স্থল হামলা হলে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলো হবে ইরানের প্রধান পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু।

আমিরাতের ভূমিকা ও ইরানের সন্দেহ: ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, আরব আমিরাত তাদের বিমানঘাঁটিগুলো ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তেহরান মনে করছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষায় আবুধাবি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে খারগ দ্বীপ (যেখান থেকে ইরানের ৯০% তেল রপ্তানি হয়) এবং কেশম দ্বীপের ওপর সম্ভাব্য স্থল হামলার প্রস্তুতি আমিরাত থেকেই শুরু হতে পারে বলে তেহরান গভীরভাবে সন্দেহ করছে।

পারস্পরিক হুমকি ও বর্তমান পরিস্থিতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যদি কোনো দেশ ইরানের একখণ্ড জমিও দখলের অভিযানে সহায়তা করে, তবে সেই দেশকে ‘আগ্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে গণ্য করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই কড়া বার্তা ইতিমধ্যেই আমিরাতি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার নতুন মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবরে এই অঞ্চলে যুদ্ধের নতুন ও ভয়াবহ ধাপ শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post