মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানের পাল্টাহামলার হুমকি; মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এখন সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামো ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত হানছে। গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের বুশেহর ও খুজেস্তান প্রদেশে দফায় দফায় শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব হামলায় বুশেহরে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে।
বেসামরিক স্থাপনায় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি: এদিনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে খুজেস্তান প্রদেশে, যেখানে ১০ হাজার ঘনমিটার (প্রায় ১ কোটি লিটার) ধারণক্ষমতার একটি বিশাল পানি সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা বিঘ্নিত করার এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই যুদ্ধে ইরানের অনেক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানি সরবরাহ কেন্দ্রটির ওপর আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের কঠোর প্রতিশোধের বার্তা: নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পানি সরবরাহ কেন্দ্রে হামলার প্রতিবাদে অত্যন্ত মারমুখী অবস্থান নিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC)। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যেহেতু তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে, তাই এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত বিদেশি ক্যাম্পাসগুলোর নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।