রাষ্ট্রপতির ভাষণ: ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের শুভ সূচনা

 


ত্রয়োদশ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ: দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ কাটিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূর্যোদয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি গত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থাকে 'ফ্যাসিবাদী' হিসেবে অভিহিত করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে একটি তাঁবেদারমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকার আহতদের সুচিকিৎসায় ১২ হাজার ৪৩টি স্বাস্থ্যকার্ড প্রদানসহ গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে সারাদেশে স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঢাকায় 'জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে এবং বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলের আর্থিক অনিয়ম ও পুঁজিবাজারের কারসাজি তদন্তে পৃথক 'সংস্কার কমিশন' গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এই সংসদীয় যাত্রার মাধ্যমে দেশে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post