তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রীর বেইজিং সফর; লক্ষ্য কি ‘শান্তি মিশন’ নাকি নতুন কোনো মেরুকরণ?
তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝেই এক গুরুত্বপূর্ণ ‘শান্তি মিশনে’ বেইজিং সফরে যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী চেং লি-উন। সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব: চেং লি-উনের এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তাইওয়ানের ওপর চীনের সামরিক চাপ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। বেইজিং দীর্ঘকাল ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সফরটি বেশ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তাইওয়ানের পার্লামেন্টে সরকারি দলের উত্থাপিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট পরিকল্পনায় ভেটো দিয়েছে বিরোধী দল, যা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ ছিল।
শান্তি না কি কৌশল: বিরোধীদলীয় নেত্রী তাঁর এই সফরকে একটি ‘শান্তি মিশন’ হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের শঙ্কা কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে তাইওয়ানের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল এবং পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এই সফরকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। তাদের মতে, যখন বেইজিং সামরিক আগ্রাসনের হুমকি দিচ্ছে, তখন এ ধরনের সফর তাইওয়ানের ঐক্য ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চেং লি-উনের বৈঠকের ফলাফলই বলে দেবে আগামী দিনগুলোতে তাইওয়ান প্রণালির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।