ইরানকে হুমকির পর 'আলহামদুলিল্লাহ' বললেন ট্রাম্প! মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র ক্ষোভ

 


পাইলট উদ্ধারকে 'ইস্টারের অলৌকিক ঘটনা' আখ্যা ট্রাম্পের; ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারে তীব্র বিতর্ক

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানকে ট্রাম্প 'ইস্টারের অলৌকিক ঘটনা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সামরিক অভিযানে এই ধরনের ধর্মীয় শব্দের ব্যবহার এবং ইরানকে দেওয়া হুমকির ভাষা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ধর্মীয় আবেশ ও যুদ্ধের যৌক্তিকতা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সফল অভিযানকে ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত’ এবং ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে প্রচার করছেন। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, এই উদ্ধার মিশন ছিল সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। এমনকি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকির শেষে 'সকল প্রশংসা আল্লাহর' (Alhamdulillah) বাক্যটি ব্যবহার করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প যুদ্ধকে বৈধতা দিতে এবং ভোটারদের আবেগ টানতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা: ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তাঁর একসময়ের কট্টর সমর্থক মার্জোরি টেইলর গ্রিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প খ্রিষ্টান মূল্যবোধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে শান্তির বদলে যুদ্ধের পথ বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, মার্কিন মুসলিম সংগঠন 'কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস' (CAIR) ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ধ্বংসাত্মক হুমকির সাথে ইসলামের পবিত্র বাক্য ব্যবহার করা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং এটি মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর।

প্রেসিডেন্টের এই ‘ধর্মীয় কার্ড’ খেলা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে, যেখানে একদিকে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও অন্যদিকে নৈতিক মূল্যবোধের সংঘাত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post