যুদ্ধবিরতির মাঝেই বিপাকে নেতানিয়াহু; রোববার থেকে শুরু হচ্ছে দুর্নীতির বিচার
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। আর এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী রোববার থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি আদালত।
ঘটনার পটভূমি ও আদালতের সিদ্ধান্ত: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি থাকায় সব ধরনের বিচার বিভাগীয় কাজ স্থগিত ছিল। বুধবার জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর আদালত জানিয়েছে, বিচারব্যবস্থা এখন সচল এবং রোববার থেকে বুধবারের মধ্যে নেতানিয়াহুর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিই প্রথম এমন বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হলেও তিনি তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
যুদ্ধ ও রাজনীতির জটিল সমীকরণ:
যুদ্ধবিরতি ও লেবানন ইস্যু: যদিও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে। এই অস্থিরতার মাঝেই বিচার শুরু হওয়া নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের সমর্থন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কাছে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।
বর্তমানে এই বিচারপ্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর জেল পর্যন্ত হতে পারে। যুদ্ধের ডামাডোল কাটিয়ে ইসরায়েল এখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের নতুন ধাপে প্রবেশ করল।