ইতিহাস হতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি? ইরানি হামলায় লণ্ডভণ্ড সামরিক স্থাপনা

 


ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপট ম্লান; ঝুঁকির মুখে এক ডজন সামরিক ঘাঁটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। লজিস্টিক হাব হিসেবে পরিচিত প্রায় এক ডজন সামরিক স্থাপনা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেগুলোকে এখন ‘বসবাসের অনুপযোগী’ এবং ‘অকার্যকর’ বলে বর্ণনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা:

  • অকার্যকর অবকাঠামো: জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চের মতে, এক মাসের যুদ্ধে ইরান আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের প্রধান ভৌত অবকাঠামো বা ঘাঁটিগুলো প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরসহ কুয়েত, কাতার ও ওমানের ঘাঁটিগুলো এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে।

  • নিরাপত্তার বদলে বোঝা: বিশ্লেষক শানা আর মার্শাল মনে করেন, এক সময় উপসাগরীয় দেশগুলো তেলের বিনিময়ে যে মার্কিন নিরাপত্তা চাইত, সেই সমীকরণ এখন আর কাজ করছে না। বরং এই ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি এখন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য সুবিধার চেয়ে দায় ও ঝুঁকি বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

  • আস্থার সংকট: কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসি জানিয়েছেন, মার্কিন ‘নিরাপত্তা ছাতা’ ইরানের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাহরাইন, সৌদি আরব ও আমিরাতের মতো দেশগুলো এখন তাদের নিরাপত্তার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।

১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর গড়ে ওঠা এই বিশাল সামরিক বলয় আজ খণ্ডবিখণ্ড। সাত সপ্তাহের এই সংঘাত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের ধারণাটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই পরিস্থিতি অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post