যুদ্ধের নেশায় ট্রাম্প! সামরিক খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বাড়লেও কোপ পড়ছে নাসা ও স্বাস্থ্য খাতে

 


সামরিক খাতে ট্রাম্পের রেকর্ড ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট; সামাজিক খাতে বড় ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব

ইরান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের এক বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রতিরক্ষা বাজেট দাঁড়াবে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হোয়াইট হাউস এই বৃদ্ধিকে 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগের ঐতিহাসিক প্রস্তুতির' সাথে তুলনা করেছে।

বাজেটের মূল দিকসমূহ ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ট্রাম্পের এই বিশাল বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হবে বিতর্কিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ৩৪টি নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য খনিজ সম্পদ মজুত করার কাজে। এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োজিত হাজার হাজার সেনাসহ সামরিক সদস্যদের বেতন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে, যা এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

খরচ কমাতে অন্যান্য খাতে ব্যাপক ছাঁটাই: সামরিক খাতের এই বিশাল ব্যয় মেটাতে ট্রাম্প অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় বিভাগে বড় ধরনের কাটছাঁটের প্রস্তাব দিয়েছেন। পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থায় (EPA) রেকর্ড ৫২ শতাংশ, নাসায় (NASA) ২৩ শতাংশ এবং কৃষি বিভাগে ১৯ শতাংশ বরাদ্দ কমানোর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগের ৩০টি কর্মসূচি বাতিল এবং গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন বন্ধের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, একদিকে জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় কমানোর কথা বললেও ট্রাম্প তাঁর শখের প্রকল্প যেমন—অ্যালকাট্রাজ দ্বীপকে পুনরায় কারাগার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বড় অঙ্কের তহবিল রেখেছেন।

চ্যালেঞ্জ ও বৈপরীত্য: ক্ষমতায় আসার আগে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্পের বর্তমান বাজেট পরিকল্পনা ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইলন মাস্কের নেতৃত্বে ৩ লাখ সরকারি চাকরি ছাঁটাইয়ের পরেও বাজেট ঘাটতি ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এখন এই উচ্চাভিলাষী প্রতিরক্ষা বাজেট পাসের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যেখানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post