জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৭ লাখ টন ডিজেল ও অকটেন আমদানির বড় সিদ্ধান্ত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশে যাতে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য বড় ধরনের আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন আমদানির তিনটি পৃথক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
আমদানির উৎস ও পরিমাণ: সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (DPM) মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করবে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো হলো:
ডিবিএস ট্রেডিং হাউস: এখান থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন কেনা হবে।
ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল: এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন সালফার ডিজেল সংগ্রহ করা হবে।
কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট: এখান থেকে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন হাই স্পিড ডিজেল (AGO) আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কেন এই জরুরি পদক্ষেপ? বর্তমানে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনেই সরকার এই দ্রুত আমদানির পথে হাঁটছে। এই ১৭ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি দেশে পৌঁছালে চলমান 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতা কমবে এবং বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।