ইসলামাবাদে ভ্যান্স বনাম ঘালিবাফ; শান্তি ফিরবে নাকি আবারও শুরু হবে ভয়াবহ যুদ্ধ?

 


যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদের বৈঠক: দোদুল্যমান মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে বিশ্ববাসীর নজর

পাল্টাপাল্টি হুমকি আর উত্তেজনার মাঝে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সেই বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি বৈঠক। একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছেন বিশ্বনেতারা।

বৈঠকের প্রধান আলোচ্য ও সংকটসমূহ:

  • ইসলামাবাদ বৈঠক: যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের নেতৃত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তান এখন এই দুই চিরশত্রু দেশের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী। মূলত ইরানের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা’র ভিত্তিতেই এই আলোচনা হবে।

  • লেবানন বিতর্ক: ইরান ও পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু তা মানতে নারাজ। ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ায় ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হয়, তবে আগের চেয়েও বড় ও ভয়াবহ আক্রমণ শুরু হবে। চুক্তির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমান ইরানের আশপাশেই অবস্থান করবে।

  • সৌদি-ইরান যোগাযোগ: দীর্ঘ সংঘাতের পর এই প্রথম সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে আলাপ করেছেন। তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং চীনের পরোক্ষ সমর্থনে ইসলামাবাদ আজ বিশ্ব শান্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি থামার একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post