হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে ট্রাম্পকে কি সমঝোতায় বাধ্য করল ইরান?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত দুই সপ্তাহের ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’কে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের বিজয় হিসেবে দাবি করলেও, পর্দার আড়ালের চিত্র ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে ইরান কার্যত বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।
অর্থনৈতিক যুদ্ধের মূল হাতিয়ার: বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস এবং এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া সার এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ছয় সপ্তাহ ধরে ইরান এই পথ বন্ধ রাখায় ফিলিপাইনসহ এশিয়ার অনেক দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এই সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ইরানের আয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সমঝোতার নতুন শর্ত: ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রস্তাব উঠেছে যে, এই পথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিয়মিত ‘ফি’ দিতে হতে পারে। এরই মধ্যে ওমানকে মধ্যস্থতাকারী রেখে একটি তহবিল গঠনের কথা চলছে, যেখানে প্রতিটি জাহাজকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে হতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান প্রমাণ করেছে যে বড় সামরিক শক্তি ছাড়াও কেবল ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে তারা বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। ট্রাম্প এই প্রস্তাবগুলোকে আলোচনার যোগ্য বলে মেনে নেওয়ায় এটি স্পষ্ট যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণই ইরানকে দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।