ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের; আইন কি তাকে অনুমতি দেবে? জানুন আসল সত্য

 


ট্রাম্পের ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ও আইনি বাস্তবতা: প্রেসিডেন্ট কি চাইলেই বের হতে পারবেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো (NATO) জোটের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় মিত্রদের পূর্ণ সমর্থন না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি আসলেই একক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ঐতিহাসিক জোট থেকে বের করে নিতে পারেন?

আইনি বাধার দেয়াল: ট্রাম্প চাইলেই হুট করে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন না। কারণ, মার্কিন কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়াকে ‘ট্রাম্প-প্রুফ’ করার জন্য কঠোর আইন পাস করেছে।

  • ২০২৪ সালের এনডিএএ (NDAA) আইন: এই আইনের ১২৫০এ ধারা অনুযায়ী, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এককভাবে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করতে পারবেন না।

  • কংগ্রেসের অনুমোদন: ন্যাটো ত্যাগের জন্য মার্কিন সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি অথবা কংগ্রেসের বিশেষ আইনের প্রয়োজন হবে।

  • ফান্ডিং ব্লক: এই আইন অনুযায়ী, ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য কোনো সরকারি অর্থ বা ফেডারেল ফান্ড ব্যয় করাও নিষিদ্ধ।

ট্রাম্পের যুক্তি ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ: ট্রাম্প মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোর সুরক্ষায় পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করছে না এবং সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ সহায়তা দিচ্ছে না। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তিনি একে একটি "অলাভজনক চুক্তি" হিসেবে দেখছেন। যদিও ন্যাটোর ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো সদস্য দেশ এক বছরের নোটিশে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, কিন্তু মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইন ট্রাম্পের এই ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে সীমিত করে দিয়েছে। ফলে ট্রাম্পের এই হুমকি বর্তমানে একটি শক্তিশালী ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যা আইনিভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল।

Post a Comment

Previous Post Next Post