লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির নতুন সম্ভাবনা: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা
লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ঐতিহাসিক চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট ও চুক্তির শর্তাবলি:
শান্তির পথে যুদ্ধবিরতি: বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা (বাংলাদেশ সময়) থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো সংলাপের আগে লেবাননে যুদ্ধ থামানো জরুরি। এই সমঝোতা মূলত সেই আলোচনার পথকেই প্রশস্ত করেছে।
পারমাণবিক ও অর্থনৈতিক দিক: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে প্রায় একমত হয়েছে। বিনিময়ে ইরানের আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তির মেয়াদ ২০ বছরের বেশি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ বললেও হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তে অটল রয়েছেন। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তারা ইসরায়েলের গতিবিধি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
ট্রাম্পের সুবিধাজনক অবস্থান: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি এখন আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি চূড়ান্ত হলে তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর করার পরিকল্পনা করছেন। তবে কোনো কারণে এই আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।