ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন মোড়! ট্রাম্পের দেওয়া ২ কঠিন শর্তে কি রাজি হবে তেহরান?

 


ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা: আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ২ শর্ত

উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফার এই বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সামনে দু’টি নতুন ও কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ২ শর্ত:

  • হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা: ওয়াশিংটনের প্রথম দাবি হলো হরমুজ প্রণালীকে ‘সম্পূর্ণ ও অবাধ’ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতার’ নীতিতে অটল—অর্থাৎ ইরান যদি অন্যের জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে ইরানের নিজস্ব কোনো জাহাজও এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

  • আইআরজিসি-র পূর্ণ কর্তৃত্ব: আলোচনার টেবিলে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে আসতে হবে। ওয়াশিংটন চায় যেকোনো চুক্তিতে যেন ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় নেতৃত্বের স্পষ্ট সম্মতি থাকে।

আলোচনার প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি: গত সপ্তাহান্তের বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়া শেষ হলেও, এ সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে আবারও ইসলামাবাদে মুখোমুখি হতে পারে দুই পক্ষ। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডের মধ্যে মতভেদের খবর পাওয়া গেলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটিকে ‘অর্থনৈতিক ধস’ থেকে বাঁচাতে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শর্তগুলো মেনে নিয়ে শান্তি চুক্তির পথে হাঁটে কি না।

Post a Comment

Previous Post Next Post