ট্রাম্পের তাড়াহুড়ো ও তেহরানের অনড় অবস্থান: কেন আটকে আছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা?
ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফা আলোচনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগাম ও অতিরঞ্জিত ঘোষণা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অনড় অবস্থানের কারণেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
অচলাবস্থার মূল কারণসমূহ:
আরাগচির বিতর্কিত পোস্ট: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে (সাবেক টুইটার) লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও, ইরানের কট্টরপন্থী আইআরজিসি (IRGC) একে ‘ভুল ও অসম্পূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করে।
ট্রাম্পের অতিরঞ্জিত দাবি: আরাগচির পোস্টের পর ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন ‘একতরফা’ দাবি তেহরানকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। ইরান সাফ জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।
হরমুজ প্রণালি ও অবরোধ: ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দেয়। বর্তমানে কোনো জাহাজকে আইআরজিসি-র অনুমতি ছাড়া এই পথে চলতে দেওয়া হচ্ছে না।
আলোচনায় ফেরার অস্বীকৃতি: সোমবার ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের কথা থাকলেও ইরান তাতে অংশ নিতে রাজি নয়। তাদের মতে, ওয়াশিংটন ‘অযৌক্তিক’ দাবি তুলছে।
ট্রাম্প দ্রুত শান্তি চুক্তি করে সফলতা দেখাতে চাইলেও ইরান হরমুজ প্রণালিকে তাদের প্রধান শক্তির জায়গা মনে করছে। ফলে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ও অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া তারা আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী নয়।