লিটার ১১৫ টাকা হলেও ডিজেলে দিতে হচ্ছে ভর্তুকি! আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৬৪ ডলার

 


রেকর্ড দাম বৃদ্ধির পরও ডিজেলে লোকসান: ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হচ্ছে সরকারকে

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও সরকারকে এখনো বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি:

  • আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব: ইরান যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ছিল ৮৮ ডলার, যা বর্তমানে ১৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এমনকি মাঝপথে এটি ২০৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। ফলে চড়া দামে পরিশোধিত তেল আমদানি করতে গিয়ে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

  • ভর্তুকি ও নতুন দাম: গত রাত থেকে ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা করা হয়েছে। বিপিসির মতে, আন্তর্জাতিক দরের সাথে ভ্যাট-ট্যাক্স যোগ করলে ডিজেলের দাম হওয়া উচিত ছিল প্রতি লিটার ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ বর্তমান দামেও লিটার প্রতি সরকারকে বিশাল লোকসান গুনতে হচ্ছে।

  • সরবরাহ ও মজুত: সরকারের দাবি, দাম বাড়লেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দৈনিক ২০০ টন বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

  • সংকটের কারণ: পাম্পগুলোতে ভিড় ও দীর্ঘ লাইনের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অনেকে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনে বাসায় মজুত করছেন।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের সাথে তাল মেলাতে এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতেই সরকার বাধ্য হয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষকে অহেতুক তেল মজুত না করার এবং সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post