ইরানে ক্যানসারের ওষুধ কারখানায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা; ইস্পাহানে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বিস্ফোরণ
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির অন্যতম বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘তৌফিক দারু ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ কোম্পানি’-তে হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যেখানে ক্যানসাররোধী ও চেতনানাশক ওষুধ তৈরি হয়, সেই কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো চরম অমানবিকতা।
ইস্পাহানে ভূগর্ভস্থ গোলাবারুদ ডিপোতে হামলা: ওষুধ কারখানার পাশাপাশি ইরানের ইস্পাহান শহরের উপকণ্ঠে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ গোলাবারুদ ডিপোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, এই অভিযানে ৯০০ কেজি (২০০০ পাউন্ড) ওজনের শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাটির গভীর স্তরের স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম এমন অনেক ‘পেনিট্রেটর মিউনিশন’ এই হামলায় ব্যবহার করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি: নাসার স্যাটেলাইট ডাটা অনুযায়ী, ইস্পাহানের সোফেহ পাহাড়ের কাছে এই বিশাল বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশাল বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা এই হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে। মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘হালভাশ’ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ এখন কেবল সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও চিকিৎসা অবকাঠামোও আক্রান্ত হচ্ছে।