ইরানের কৌশলগত শক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা: কেন দীর্ঘায়িত হচ্ছে এই সংঘাত?
সামরিক শক্তিতে বিশ্বের এক নম্বর দেশ হয়েও ইরানের বিরুদ্ধে জয়ী হতে যুক্তরাষ্ট্র কেন হিমশিম খাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আলজাজিরা ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশলগত শক্তি এই যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
ইরানের প্রধান অস্ত্র: হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি রাজনীতি ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভৌগোলিক অবস্থান, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই জলপথ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনকে পিছু হটতে বাধ্য করছে।
কেন সফল হচ্ছে না মার্কিন কৌশল? ১. অর্থনৈতিক চাপ: ইরান খুব সামান্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করে কেবল জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বাড়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। ২. মিত্র দেশগুলোর ঝুঁকি: পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে সৌদি আরব বা আমিরাতের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোর তেল খনি ও অবকাঠামো ইরানের নিশানায় পড়ার ভয় রয়েছে। ৩. রাজনৈতিক ঝুঁকি: স্থলযুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে, যা নির্বাচনের বছরে বড় ঝুঁকি। ৪. খার্গ দ্বীপ ও গেরিলা প্রতিরোধ: ইরানের প্রধান তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করা সম্ভব হলেও, দেশটির বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ও বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে যুদ্ধ শেষ করা কঠিন। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে মার্কিন ধৈর্য ও অর্থনীতির পরীক্ষা নিচ্ছে।