ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের ঘরে ভাঙন: আদর্শিক সংকটে রিপাবলিকান শিবির
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও গভীর ফাটল ধরিয়েছে। দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমর্থক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব টকার কার্লসন থেকে শুরু করে জো রোগানের মতো জনপ্রিয় পডকাস্টাররা এখন এই যুদ্ধের প্রকাশ্য বিরোধিতা করছেন। কার্লসনের মতে, এটি ইসরায়েলের যুদ্ধ, আমেরিকার নয়; এবং এই সংঘাত থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসাই ট্রাম্পের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের বিশাল অংশ (৮৯%) এই যুদ্ধের বিপক্ষে থাকলেও রিপাবলিকানদের ভেতরেও বিভাজন স্পষ্ট। প্রতি চারজন রিপাবলিকানের মধ্যে একজন ট্রাম্পের এই সামরিক কৌশলের সাথে একমত নন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থক, যারা ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা বয়ে বেড়াচ্ছেন, তারা নতুন করে কোনো ‘সরকার পরিবর্তন’ বা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পক্ষপাতী নন। মারজরি টেইলর গ্রিনের মতো কট্টরপন্থীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আমেরিকাকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
বর্তমানে এই যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক ছাপ ফেলতে শুরু করেছে। ১৩ জন মার্কিন সেনার প্রাণহানি এবং জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত ইরানে স্থলসেনা (Ground Troops) মোতায়েন করেন, তবে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরমে পৌঁছাবে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিভাজন ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) কর্মসূচির ভবিষ্যৎকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।