ইরানের সামরিক শক্তিতে পুতিনের গোপন সমর্থন; গোয়েন্দা তথ্যে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝে ইরান ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে তেহরানের সামরিক শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে, রাশিয়া ইরানকে ‘আংশিকভাবে’ সাহায্য করছে।
গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি: রাশিয়ার একমাত্র সচল গুপ্তচর স্যাটেলাইট ‘লিয়ানা’ বর্তমানে ইরানকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। এর পাশাপাশি, রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপিত ইরানের নিজস্ব ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইট উচ্চমানের ছবি সরবরাহ করছে, যা মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর নজরদারি সহজ করে তুলেছে। এই প্রযুক্তির আদান-প্রদান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ড্রোন প্রযুক্তি ও আধুনিক রণকৌশল: ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্রের আদান-প্রদান এখন দ্বিমুখী। রাশিয়া কেবল শাহেদ ড্রোন গ্রহণই করছে না, বরং সেই ড্রোনের আধুনিক সংস্করণে নিজেদের তৈরি জ্যামিং-প্রতিরোধী মডিউল যুক্ত করে ইরানে ফেরত পাঠাচ্ছে। সম্প্রতি সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার এই উন্নত প্রযুক্তি পাওয়া গেছে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত ‘আকাশ প্রতিরক্ষা বিভ্রান্ত করার কৌশল’ এখন ইরানকেও মধ্যপ্রাচ্যে সফল হামলা চালাতে সহায়তা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকায় রাশিয়া এই যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।