যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের গোপন মিশন; ইরান ও ট্রাম্পের মাঝে ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব!

 


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামাতে কেন তুরুপের তাস পাকিস্তান?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাত যখন ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে, তখন ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। ওমান বা কাতারের মতো দেশগুলো বর্তমানে কোনো না কোনোভাবে এই সংকটে জড়িয়ে পড়ায়, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে পর্দার আড়ালে বড় ভূমিকা রাখছে দেশটি।

কেন মধ্যস্থতায় পাকিস্তান? পাকিস্তানের এই বিশেষ ভূমিকার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত কারণ। তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষের সাথেই পাকিস্তানের কার্যকরী সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭২ সালে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং ১৯৮৮ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়েও অতীতে পাকিস্তান সফল মধ্যস্থতা করেছিল। বর্তমানে তুরস্ক ও মিশরও পর্দার আড়াল থেকে পাকিস্তানকে এই কাজে সহায়তা করছে।

পাকিস্তানের নিজস্ব স্বার্থ ও ঝুঁকি: এই যুদ্ধ থামানো পাকিস্তানের জন্য কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে এবং করাচিসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে এ পর্যন্ত ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ৫০ লাখ পাকিস্তানির পাঠানো রেমিট্যান্স এবং আরব দেশগুলোর তেল-গ্যাসের ওপর দেশটির অর্থনীতি সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

বর্তমান ফলাফল: বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টার কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন। যদি এই মধ্যস্থতা সফল হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ইসলামাবাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং বিশ্ব এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post