ইরানিদের মনোবল ভাঙতে ব্যর্থ ইসরায়েল; যুদ্ধের ময়দানে কেন অপ্রতিরোধ্য তেহরান?

 

ক্লজউইটজ তত্ত্ব ও ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কৌশলী ভুল

সামরিক তাত্ত্বিক কার্ল ফন ক্লাউজেভিৎসের মতে, যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য তিনটি: শত্রুর সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করা, দেশ দখল করা এবং শত্রুর মনোবল ভেঙে দেওয়া। চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে দেখা যাচ্ছে, আক্রমণকারীরা এই মৌলিক তত্ত্বগুলো প্রয়োগে চরম ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর ইরানি জাতির মনোবল ভাঙার বদলে তা বহুগুণ বেড়ে গেছে। খামেনি এখন তাদের কাছে এক অপরাজেয় ‘শহীদ’ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

ইতিহাস সাক্ষী, শুধু আকাশপথে বোমা মেরে কোনো জাতিকে পরাজিত করা যায় না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি ব্রিটেনকে বোমা মেরে ধ্বংস করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছিল। বর্তমানে ইরানে নির্বিচার বোমা বর্ষণ, এমনকি শিশুদের ওপর হামলার ঘটনা ইরানিদের প্রতিশোধের স্পৃহা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানকে ‘নরম’ মনে করে যে ভুল করেছেন, তার প্রমাণ মিলছে ইরানের বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণে। মার্কিন জিপিএস জ্যাম করা সত্ত্বেও ইরান চীনা ‘বেইদু’ স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করে ইসরায়েলের আইরন ডোম ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিয়েছে।

ইরানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও ৯ কোটি জনসংখ্যার বিরুদ্ধে মাত্র আড়াই হাজার মেরিন সেনা পাঠানো সামরিক ভাষায় নিতান্তই নগণ্য। ৬ লাখ ৩৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে স্থলযুদ্ধে জয়ী হতে অন্তত ২০ লাখ সৈন্য প্রয়োজন। এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছে, তার সমাধান আক্রমণকারীদের জানা নেই। মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া একটি জাতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি অন্তহীন চোরাবালিতে পরিণত হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post