শীর্ষ নেতারা নিহত, বর্তমানে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে কারা?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো ভেঙে পড়েনি। মূলত ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পরবর্তী জটিল ও বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণেই একক ব্যক্তির অনুপস্থিতিতেও দেশটি কার্যকরভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছে।
নতুন নেতৃত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি: খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে হামলায় আহত হওয়ার কারণে তাকে এখনো জনসম্মুখে দেখা যায়নি এবং তিনি বর্তমানে রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) সমর্থনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আইআরজিসি-র ‘মোজাইক’ কাঠামোর কারণে দ্রুত বিকল্প নেতৃত্ব উঠে এসেছে, ফলে প্রতিটি সামরিক ইউনিট স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে।
ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ: বর্তমানে ইরানের নীতিনির্ধারণে যারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন:
আহমাদ বাহিদি ও ইসমাইল কানি: রেভল্যুশনারি গার্ড ও কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে সামরিক ও আঞ্চলিক মিত্রদের সামলাচ্ছেন।
মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ: সংসদের স্পিকার এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সক্রিয়।
মাসুদ পেজেশকিয়ান: নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
আব্বাস আরাঘচি: অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক বর্তমানে আন্তর্জাতিক আলোচনা ও সমঝোতার দিকটি দেখছেন।
আলিরেজা তাংসিরি: নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নেতৃত্ব আগের তুলনায় আরও বেশি কট্টর অবস্থান নিতে পারে, যা চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।