মৃত ঘোষণার পরও যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালো হিজবুল্লাহ: এক অবিশ্বাস্য পুনরুত্থানের গল্প
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবানন সরকার যখন হিজবুল্লাহকে ‘বিধ্বস্ত’ ও ‘কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে’ বলে ঘোষণা করেছিল, ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবল শক্তিতে ফিরে এসেছে সংগঠনটি। বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ মাসের যুদ্ধবিরতিকে হিজবুল্লাহ কোনো শান্তি চুক্তি হিসেবে নয়, বরং নিজেদের পুনর্গঠন ও পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
কৌশলগত পরিবর্তন ও পুনর্গঠন: ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পরদিন থেকেই হিজবুল্লাহর কমান্ড পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। ইসরায়েলি গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি বর্জন করে হাতে লেখা চিরকুট ও বার্তাবাহকের মতো ‘আদিম’ পদ্ধতিতে ফিরে যায়। এছাড়া, তারা প্রথাগত বড় সেনাবাহিনীর কাঠামো ভেঙে আধা-স্বায়ত্তশাসিত ছোট ইউনিটে বিভক্ত হয়েছে, যা ‘ইমাদ মুগনিয়া মডেল’ নামে পরিচিত। এই মডেলে কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ কম থাকলেও প্রতিটি ইউনিট স্বাধীনভাবে দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম।
রসদ ও দক্ষিণ লেবাননে প্রত্যাবর্তন: সিরিয়ার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হিজবুল্লাহ তাদের অস্ত্র ডিপো খালি করে লেবাননে সরিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি ইরান ও স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে রকেট ও ড্রোনের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করেছে। কাগজ-কলমে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর সরে যাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা অত্যন্ত সংপ্তর্পণে সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। গত কয়েক দিনের ভয়াবহ রকেট ও ড্রোন হামলা প্রমাণ করেছে যে, ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠে হিজবুল্লাহ এখন দক্ষিণ ইসরায়েল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। তাদের ভাষায়, "হিজবুল্লাহ কেবল একটি দল নয়, এটি একটি জাতি; আর জাতির মৃত্যু হয় না।"