সংবিধান সংস্কার পরিষদ সভা নিয়ে সংসদে বিতর্ক: জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যা দাবি
সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সভা কেন আহ্বান করা হয়নি, তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি যুক্তি দেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন আহ্বানের যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, সেই একই নিয়মে সংস্কার পরিষদের সভাটিও আয়োজন করা বাধ্যতামূলক ছিল।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান পরিবর্তন করার কোনো অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই। তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ’ মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধানের অংশ নয়। তাই সংবিধানে নেই এমন কোনো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিতে পারেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং গণভোটের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সংসদ এমন কোনো আইন পাস করতে পারে না যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় বাতিল হয়ে যায়। তাই সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম শুরু করার আগে সংবিধান সংশোধন করা অপরিহার্য। সংশোধনীর মাধ্যমেই কেবল এই পরিষদ গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা সম্ভব। সরকার সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই রাষ্ট্রের সংস্কার সম্পন্ন করতে চায় বলে তিনি অধিবেশনে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সংসদের এই বিতর্কের ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামো ও সংস্কার ইস্যুটি এখন প্রধান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।