ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে চীনের রহস্যময় নীরবতা; তাইওয়ান কি তেহরানের চেয়েও দামী?
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় এনে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান ক্ষতবিক্ষত হলেও, সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেইজিংয়ের নির্লিপ্ত ভূমিকা। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে চীনের দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে, তখন শি জিনপিং প্রশাসন বজায় রেখেছে রহস্যময় নীরবতা।
হামলার শুরুতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে পাত্তাই দিতে চায়নি। পরবর্তীতে কড়া সমালোচনার সুরে কথা বললেও তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম নেয়নি। এমনকি হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকিতে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লেও তারা কেবল ‘শান্তি ও আলোচনার’ বুলি আউড়েছে। এই নীরবতার নেপথ্যে কাজ করছে এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে পরিস্থিতির হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বড় কোনো সুবিধা আদায় করে নিয়েছে বেইজিং। হামলার এক মাস আগে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ফোনালাপে ইরানের চেয়ে ‘তাইওয়ান ইস্যু’ এবং ‘চীন-মার্কিন বাণিজ্য’ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তির স্বার্থে তাইওয়ানের কাছে কয়েকশ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি পিছিয়ে দিয়েছেন। এর প্রতিদানে চীনও তাইওয়ানকে নিরাপদ রাখতে ইরানের মতো কৌশলগত মিত্রকে ত্যাগ করতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি। মূলত নিজের দেশের অর্থনীতি ও তাইওয়ান রক্ষা করতে গিয়ে ইরানকে একপ্রকার ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়েছে চীন।