উইল টু ফাইট’ বা লড়াইয়ের ইচ্ছাশক্তি: কেন প্রযুক্তি নয়, মানুষই যুদ্ধের শেষ কথা
বিখ্যাত সামরিক তাত্ত্বিক কার্ল ফন ক্লজউইটজ বলেছিলেন, যুদ্ধ হলো মূলত ইচ্ছাশক্তির সংঘাত। আধুনিক রণক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্রের আধিপত্য থাকলেও যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে মানুষের মানসিক দৃঢ়তা বা ‘উইল টু ফাইট’। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক র্যান্ড করপোরেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক সময় সামরিক বাহিনীর লড়াই করার মানসিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।
বর্তমানে ড্রোন বা রিমোট কন্ট্রোল অস্ত্রের মাধ্যমে যুদ্ধ অনেকটা ‘ভিডিও গেমে’র মতো হয়ে গেছে, যেখানে সৈন্যরা সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা বা মৃত্যুর ঝুঁকি অনুভব করে না। এতে তাদের আত্মত্যাগের মানসিকতা শিথিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে, সাইবার হামলা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে প্রযুক্তি অকেজো হয়ে পড়লে কেবল মানসিক শক্তিতে বলীয়ান সৈন্যরাই টিকে থাকতে পারে। ইতিহাস সাক্ষী—ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র লাখ লাখ টন বোমা ফেলেও ভিয়েতনামের লড়াই করার সংকল্প ভাঙতে পারেনি। বর্তমান গাজা বা ইরান-ইসরায়েল সংকটেও দেখা যাচ্ছে যে, কেবল বোমাবর্ষণ করে একটি জাতির প্রতিরোধক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
সহজ কথায়, যারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করে লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, শেষ পর্যন্ত বিজয় তাদেরই হয়। প্রযুক্তির উৎকর্ষ যুদ্ধের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের প্রকৃত স্বরূপ অর্থাৎ মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কখনোই হার মানাতে পারে না।