ইরান ও হুতিদের হামলায় দিশেহারা তেল আবিব; ফুরিয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার ইন্টারসেপ্টর

 


আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল; ফুরিয়ে আসছে কোটি টাকার ইন্টারসেপ্টর মিসাইল

ইরানের সঙ্গে মাসব্যাপী যুদ্ধে ইসরায়েল এখন এক ভয়াবহ সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একদিকে হিজবুল্লাহ ও হুতিদের চতুর্মুখী হামলা, অন্যদিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের তীব্র সংকট—সব মিলিয়ে তেল আবিবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলা ঠেকাতে গিয়ে ইসরায়েলের উন্নত ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সিস্টেমের মজুত বিপজ্জনক হারে কমে আসছে।

রেশনিং ও কৌশল পরিবর্তন: ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন ‘রেশনিং’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ, তারা এখন সব মিসাইল ধ্বংস না করে কেবল জনবহুল এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে এমন লক্ষ্যবস্তুগুলোকেই টার্গেট করছে। জনশূন্য স্থানে পড়ার সম্ভাবনা থাকা ইরানি মিসাইলগুলো এখন আর ধ্বংস করা হচ্ছে না। প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে খরচ হচ্ছে কয়েক লাখ ডলার, যা ইসরায়েলি অর্থনীতির ওপরও বিশাল চাপ তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ: পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য—উভয় অঞ্চলের চাহিদা মেটানো তাদের নিজস্ব মজুতের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে বলছে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। যদি আরও কয়েক সপ্তাহ এই পরিস্থিতি চলে, তবে ইসরায়েলের বড় শহরগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post