তেল আবিবে ইরানের বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; ধ্বংসস্তূপে পরিণত আবাসিক ভবন
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার গুঞ্জনের মাঝেই ইসরায়েলের বুক চিরে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে কয়েক দফায় এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার দাবি করছেন, ঠিক তখনই ইরানের এই শক্তিশালী পাল্টা আঘাত যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
তেল আবিবে ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার অভিযান: হামলার সময় তেল আবিবজুড়ে সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসরায়েলি ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ধসে পড়া ভবন ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছে। এটি সরাসরি ইরানের মিসাইল নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষের আঘাত—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাল্টা বিমান হামলা ও কূটনৈতিক ধোঁয়াশা: এর আগে সোমবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। আইআরজিসি (IRGC) এর গোয়েন্দা শাখা ও গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টারসহ ৫০টিরও বেশি স্থাপনা লক্ষ্য করে এই বোমাবর্ষণ করা হয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ দাবি করলেও ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাস ট্রাম্পের মন্তব্যকে বিদ্রূপ করে ছবি পোস্ট করেছে, যা প্রমাণ করে যে তেহরান এখনই হার মানতে নারাজ। হরমুজ প্রণালি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি নিয়ে দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।