রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ভারতকে আগামী ৩০ দিনের জন্য সমুদ্রপথে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলের চালান কেনার বিশেষ অনুমতি বা ছাড় দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতেই এই অস্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এই বিশেষ ছাড়? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অনেক তেলের ট্যাঙ্কার মাঝসমুদ্রে ক্রেতাহীন অবস্থায় আটকে ছিল। ভারতের তেলের মজুত দিয়ে মাত্র ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব, আর তাদের আমদানির ৪০ শতাংশই আসে যুদ্ধকবলিত মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই ছাড়ের ঘোষণা দেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কেবল সমুদ্রে ভাসমান চালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এতে রাশিয়ার বড় কোনো আর্থিক লাভ হবে না।
ভারতের প্রস্তুতি ও বাজার পরিস্থিতি: মার্কিন সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো (যেমন- IOC, BPCL, HPCL) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সূত্রমতে, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল রুশ তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ তেলের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের চেয়ে ১৩ ডলার কম থাকলেও, বর্তমানে চাহিদার কারণে এই ব্যবধান কমে ৪-৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।