পারস্য উপসাগরে মার্কিন স্থল অভিযানের ছক; মরণফাঁদের আশঙ্কায় সামরিক বিশ্লেষকরা
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত দ্বীপগুলো দখলের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য যে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, তা মার্কিন সেনাদের জন্য একটি ভয়াবহ ‘মরণফাঁদ’ হয়ে উঠতে পারে। সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে ‘মিডল ইস্ট আই’ এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। মূলত অরক্ষিত রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অস্পষ্ট সামরিক লক্ষ্যের কারণেই এই অভিযান চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযানের লক্ষ্য ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ: বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের রাডার ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালাতে পারে। এরপর খারগ, কেশম এবং আবু মুসা দ্বীপগুলো দখলের জন্য মেরিন ও ছত্রীসেনা পাঠাতে পারে। বিশেষ করে খারগ দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। তবে কেশম দ্বীপের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ ও গেরিলা যুদ্ধ: সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস জানান, হেলিকপ্টারে করে নামা মার্কিন সেনারা ইরানের কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারেন। এছাড়া ইরান তাদের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, যেখানে স্থানীয় কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে আক্রমণ চালাতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দ্বীপ দখল করা গেলেও সেখানে নিয়মিত খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং ইরানি মিসাইল হামলা ঠেকিয়ে অবস্থান ধরে রাখা হবে প্রায় অসম্ভব। পরিস্থিতি অনেকটা ‘শুটিং গ্যালারি’ বা মরণফাঁদের মতো হয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।