ইরান যুদ্ধে লাভবান নেতানিয়াহু, সংকটে ট্রাম্প ও উপসাগরীয় মিত্ররা
ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ যদি এখনই থেমে যায়, তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট যে এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন সামলাতে হচ্ছে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ক্ষুব্ধ উপসাগরীয় মিত্রদের চাপ। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে, যেখানে ট্রাম্প পড়েছেন এক গোলকধাঁধায়।
যুদ্ধের কৌশলগত দিক থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে। ইসরায়েল মূলত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে ইতিমধ্যে আলী লারিজানি ও ইসমাইল খাতিবের মতো প্রভাবশালী নেতারা নিহত হয়েছেন। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ব্যস্ত রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ-সক্ষমতা দমন করতে। তবে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সাফল্যের চিত্রকে ম্লান করে দিচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো এখন অস্তিত্বের সংকটে। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং নিজেদের স্থাপনায় আঘাত আসায় তারা ওয়াশিংটনের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। ইসরায়েলের জন্য ইরান একটি অস্তিত্বগত হুমকি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি মূলত একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি। শেষ পর্যন্ত যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে যায়, তবে এই সামরিক সাফল্য ট্রাম্পের জন্য বড় ধরণের রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।