৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে বিজয়ীর বেশে ইরান: পরাশক্তি হিসেবে তেহরানের উত্থান
দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দিয়ে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ ঘোষণা করেছে ইরান। বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তাদের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া কঠোর ১০ দফা শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হওয়ায় বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে ইরানকে এখন নতুন ‘বৈশ্বিক পরাশক্তি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজয়ের নেপথ্যে ইরানের অর্জন:
১০ দফা মেনে নেওয়া: স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা অপসারণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মতো ইরানের প্রতিটি দাবিই মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালিতে একক আধিপত্য: এক মাস ধরে বিশ্ব জ্বালানি প্রবাহ স্থবির করে রাখা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সামরিক সক্ষমতা: যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে তেহরান। উল্টো বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও কৌশলগত বিপর্যয়: এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। খোদ মার্কিন নেতারাই এই ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ শুরু করার জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সমঝোতা নয়, বরং পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের চূড়ান্ত পরাজয়। এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরান কেবল আঞ্চলিক নয়, একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিল।