জ্বালানি সংকটের মুখে বাংলাদেশ: আমদানিনির্ভরতা ৬০% ছাড়িয়ে ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার
বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং বছরে এই খাতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সানেম (SANEM) আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে যে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে ২০৩১-৩৫ সালের মধ্যেই দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
আলোচনার মূল বিষয়সমূহ:
আমদানিনির্ভরতা ও আর্থিক চাপ: ২০২১ সালে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ছিল ৪৮%, যা বর্তমানে ৬০% ছাড়িয়েছে। এর ফলে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।
ভর্তুকি ও মূল্যস্ফীতি: আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি ও ডিজেলের দাম বাড়ায় সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর—লোডশেডিং বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা: প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপাল এই সংকট মোকাবিলায় রিফাইনিং ক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ওপর জোর দিচ্ছে। নেপালে বর্তমানে ৭০% নতুন গাড়িই বৈদ্যুতিক।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে জ্বালানি খাতে সংস্কার প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়ানো, নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান এবং দ্রুত রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মতো বড় প্রকল্পগুলো শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা থেকে বাঁচতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও জ্বালানি বৈচিত্র্য এখন সময়ের দাবি।