মঙ্গলবার হবে ‘সেতু ধ্বংসের দিন’! ট্রাম্পের রণহুঙ্কারে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য, ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় মিত্ররা

 


ট্রাম্পের ‘উন্মাদনা’ ও যুদ্ধের হুমকি: মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় ও অভিশংসনের দাবি

ইরানকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং নতুন করে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু’ ধ্বংসের হুমকির পর খোদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের এই আচরণকে অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতা’ ও ‘যুদ্ধাপরাধের পরিকল্পনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

হুমকি ও আল্টিমেটাম: ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মঙ্গলবারকে (৭ এপ্রিল) ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন’ ঘোষণা করেছেন। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। উল্লেখ্য, আগামীকালের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি না খুললে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই পথ খুলবে না।

রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনা: ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে তাঁর সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্জোরি টেলর গ্রিন থেকে শুরু করে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারাও ক্ষুব্ধ। মার্জোরি গ্রিন সরাসরি বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর মানসিক সুস্থতা হারিয়েছেন। অন্যদিকে, সিনেটর ক্রিস মারফি সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি তুলেছেন। বার্নি স্যান্ডার্স ও চাক শুমারও প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক পাগলামি’ ও ‘উন্মাদের প্রলাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব: ইউরোপীয় ও ন্যাটো মিত্ররা এই যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প এখন ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এর ফলে আটলান্টিকের দুই পাড়ের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম ফাটল দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও অসংলগ্ন কথাবার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে এক গভীর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post