ইরানের ২০ লাখ ডলারের ‘টোল’ আতঙ্ক! তেলের বাজারে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের ঘোষণা

 


হরমুজ প্রণালিতে ‘চাঁদা’ আদায় বন্ধের আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্প; মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ থেকে ইরানের ‘চাঁদা’ বা ফি আদায়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক কঠোর বার্তায় তিনি ইরানকে এই কর্মকাণ্ড ‘এখনই বন্ধ’ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মাত্র দুই দিনের মাথায় এই নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন—

“শোনা যাচ্ছে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কার থেকে ফি নিচ্ছে। তারা যেন এটা না করে। আর যদি করে, তবে এখনই বন্ধ করা উচিত। এটি আমাদের চুক্তির অংশ নয়।”

হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি:

  • সীমিত জাহাজ চলাচল: ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম। প্রতিটি জাহাজের জন্য ইরানের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ফি: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল বা ফি দাবি করছে, যা মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

  • ট্রাম্পের অনড় অবস্থান: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে খুব শীঘ্রই তাঁর নেতৃত্বে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তাতে ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর শাসনামলে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না।

বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, ফলে ইরানের এই ‘টোলোমিটার’ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্পের এই ক্ষোভ শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post