রাডার ফাঁকি দিয়ে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল ইরান; অপ্রতিরোধ্য 'মজিদ' মিসাইল সিস্টেম
এক মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে এখনো কতটা শক্তিশালী, তার প্রমাণ মিলল গত শুক্রবার। একদিনেই দুটি অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক বিমান—এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল এবং এ-১০ ওয়ারথগ ভূপাতিত করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ইরানি বাহিনী। গত ২০ বছরে মার্কিন বিমানবাহিনীর ইতিহাসে এমন বড় বিপর্যয় আর ঘটেনি।
যে কৌশলে সফল হলো ইরান: মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বেশিরভাগ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলেও তারা এখন প্যাসিভ সেন্সর ও ইনফ্রারেড (IR) প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। এই পদ্ধতিতে রাডার সিগন্যাল ছাড়াই বিমানের ইঞ্জিনের তাপ শনাক্ত করে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম ইরান। আইআরজিসি-র প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার থার্মাল ইমেজিং ব্যবহার করে মার্কিন বিমানগুলোকে ট্র্যাক করা হয়েছে, যা শত্রুর রাডারে ধরা পড়ে না।
অদৃশ্য ঘাতক 'মজিদ' মিসাইল সিস্টেম: ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'মজিদ' (AD-08) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা কোনো রাডার ছাড়াই ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। মাত্র ৭৫ কেজি ওজনের এই মিসাইলটি 'ম্যাক ২' গতিতে ৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত যেকোনো বিমান বা ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। যখন মার্কিন পাইলটরা নিচু দিয়ে উড়ছিলেন বা আত্মরক্ষামূলক 'ফ্লেয়ার' ফুরিয়ে গিয়েছিল, ঠিক সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই ইরান এই বিরল সাফল্য পেয়েছে। এই ঘটনা ইরানি আকাশসীমায় মার্কিন জোটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।