ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ও স্থায়ী শান্তির পথ: জাভেদ জারিফের প্রস্তাবনা
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বিশ্বখ্যাত ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে হারানো অসম্ভব—এটি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। তাই এখন সময় এসেছে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের সুফল ঘরে তুলে কূটনীতির মাধ্যমে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর।
শান্তি চুক্তির মূল প্রস্তাবসমূহ: জারিফ একটি 'সামগ্রিক শান্তিচুক্তি'র ওপর জোর দিয়েছেন যা ৪৭ বছরের বৈরিতার অবসান ঘটাবে। তাঁর প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো:
পারমাণবিক সমঝোতা: ইরান ৩.৬৭ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নামিয়ে আনবে এবং স্থায়ী আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক: বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ নৌ-নিরাপত্তা ও অনাক্রমণ চুক্তি গঠন করা।
হরমুজ প্রণালি ও বাণিজ্য: ওমানের সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে সব বাধা তুলে নেওয়া।
পুনর্গঠন ও ক্ষতিপূরণ: ২০২৫-২৬ সালের যুদ্ধে ইরানের যে অবকাঠামোগত ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পুনর্গঠন তহবিল ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
কেন এই চুক্তি এখন জরুরি? জারিফ উল্লেখ করেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল মূল্যবান জীবন ও সম্পদের অপচয় হবে। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে যে তারা বোমা মেরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে অক্ষম। অন্যদিকে, ইরানকেও বুঝতে হবে যে পারমাণবিক প্রযুক্তি আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেনি। তাই পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল একটি উজ্জ্বল ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।