আইআরজিসি বনাম মার্কিন সেনা: কেন ইরানি বাহিনীকে দমানো কঠিন?
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতির এক শক্তিশালী স্তম্ভ। প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার নিয়মিত সদস্য এবং সাড়ে ৪ লাখ 'বাসিজ' রিজার্ভ সৈন্য নিয়ে গঠিত এই বাহিনী গত কয়েক দশকের যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে নিজেদের এক অদম্য শক্তিতে পরিণত করেছে।
ইতিহাস ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা: ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গঠিত এই বাহিনী ১৯৮০-র দশকে ইরাকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৮ বছরের সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে কঠোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তারা কেবল প্রচলিত যুদ্ধেই দক্ষ নয়, বরং লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের মতো 'প্রক্সি' বা ছায়াবাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী 'ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের' (War of Attrition) কৌশল রপ্ত করেছে। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইল এবং ২০১১ সালে ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর পিছু হটার নেপথ্যে আইআরজিসির এই কৌশলী লড়াই বড় ভূমিকা রেখেছিল।
কেন তারা আত্মসমর্পণ করবে না? সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং এক মাসব্যাপী মার্কিন-ইসরাইলি ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পরও আইআরজিসি পিছু হটেনি। এর প্রধান কারণ হলো তাদের স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা। দেশটির অর্থনীতির অন্তত ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা এই বাহিনী একটি 'ডিপ স্টেট' হিসেবে কাজ করে। আইআরজিসি মনে করে, বর্তমান যুদ্ধ তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেকোনো স্থল আগ্রাসনের মুখে তারা আত্মসমর্পণ করার চেয়ে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াকেই বেছে নেবে।