সিন্ডিকেটের কারসাজি ও যুদ্ধের অজুহাতে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা
তদারকির অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ঈদের পর থেকেই দেশের ভোজ্যতেল ও নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ৫-৬টি প্রভাবশালী কোম্পানি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে বোতলজাত তেল। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই অপতৎপরতা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অজুহাত ও বাস্তব চিত্র: অসাধু ব্যবসায়ীরা বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাত দিচ্ছেন। অথচ বাজারে খোলা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তেল নয়, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৪২০ টাকায় ঠেকেছে। চাল, ডাল ও মাছের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মোটা চাল এখন ৫৬-৫৮ টাকা এবং মিনিকেট ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের নাভিশ্বাস: দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষ দিশেহারা। আয়ের সাথে ব্যয়ের সঙ্গতি মেলাতে না পেরে অনেকেই খাদ্য তালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ দিয়ে সবজি ও ডিমের ওপর নির্ভর করছেন। অনেকে আবার সঞ্চয় ভেঙে বা ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলেও বাজারে এখনো তার সুফল মেলেনি।