হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান: দিনে ১৫টি জাহাজের অনুমতি ও কঠিন সব শর্ত
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে আগের মতো অবাধে জাহাজ চলাচল এখনই সম্ভব হচ্ছে না। তেহরান জানিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে।
ইরানের নতুন কঠোর নিয়ম ও প্রটোকল:
পূর্ব অনুমতি বাধ্যতামূলক: প্রতিটি জাহাজকে চলাচলের জন্য ইরানের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। পুরো বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর।
পথ পরিবর্তন: মাইন থাকার আশঙ্কায় ওমান উপকূলের প্রচলিত পথ এড়িয়ে ইরানের উপকূলের কাছাকাছি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি মেনে চলা সব জাহাজের জন্য বাধ্যতামূলক।
বিশাল অংকের টোল: ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এছাড়া প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনে ১ ডলার করে ফি আরোপ হতে পারে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।
স্বাভাবিক অবস্থা অনিশ্চিত: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও সামরিক সমন্বয়ের কারণে যুদ্ধের আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের এই নিয়ন্ত্রিত নীতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে এবং তেলের দামে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে এই নৌপথটি ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে।