শত্রুর বিভাজন নীতি ব্যর্থ: ইরানের ‘জাতীয় ঐক্য’ নিয়ে সর্বোচ্চ নেতার কড়া বার্তা
বহিঃশত্রুর নানামুখী আগ্রাসন ও নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানি জনগণের মধ্যে গড়ে ওঠা অভূতপূর্ব ‘জাতীয় ঐক্য’ শত্রুপক্ষকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ সায়িদ মোজতবা খামেনি এক বার্তায় এই সংহতির প্রশংসা করে জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্রাজ্যবাদী হিসাব-নিকাশকে তছনছ করে দিয়েছে।
ঘটনার মূল হাইলাইটস:
ঐক্যের শক্তি: সর্বোচ্চ নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরানিদের এই নজিরবিহীন সংহতি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টাকারীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। তিনি একে একটি ‘ঐশ্বরিক নিয়ামত’ হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে আরও দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের সতর্কতা: শত্রুর মিডিয়া কার্যক্রম মানুষের মনকে লক্ষ্য করে জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে চায় বলে তিনি সতর্ক করেন। জনগণের অবহেলা যেন শত্রুর এই অশুভ উদ্দেশ্য সফল হতে না দেয়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব: সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তাকে ‘অযৌক্তিক উসকানি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ প্রশাসনের শীর্ষ তিন প্রধান। তাঁরা এক যৌথ বার্তায় প্রতিরোধের অভিন্ন সুর তুলে ধরেন।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান: ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা ও হামলার এই কঠিন সময়ে ইরানের জাতীয় ঐক্যই এখন দেশটির প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।