আকাশসীমা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাঝেই ইরানে ‘ইসলামিক রিপাবলিক ডে’ পালিত
ইরানে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক গণভোটের বার্ষিকী বা ‘ইসলামিক রিপাবলিক ডে’ এবার এক নজিরবিহীন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাত থেকে রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে সরকারি সমর্থকদের বিশাল সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান বিমান হামলার মধ্যেই কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সমাবেশ ও যুদ্ধের ভয়াবহতা: তেহরানের এই উৎসবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে মিছিলে অংশ নেন। তবে এই উদযাপনের মধ্যেই বুধবার ভোরে তেহরানের সাবেক মার্কিন দূতাবাস এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। হামলার প্রতিবাদে তেহরানের কেন্দ্রে ১৫০ মিটার উচ্চতার বিশাল এক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, যাকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরান সরকার।
অভ্যন্তরীণ সংকট ও কড়াকড়ি: দেশটিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণ অচল থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই কয়েক মাসের বেতন খরচ করে ভিপিএন কিনলেও তা কাজ করছে না। সরকার ঘোষণা করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও ধারণ বা বিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তাকে ‘গুপ্তচর’ হিসেবে গণ্য করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।
প্রতিরোধের ডাক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ: ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা ২০০১ সাল থেকেই যে কোনো স্থল অভিযান মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং দেশটি এখন ‘চূড়ান্ত বিজয়ের’ দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাত কারখানা ও আবাসিক এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধ, তথ্যবিচ্ছিন্নতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের এই ত্রিমুখী চাপে সাধারণ ইরানিদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।