আধুনিক ও স্বনির্ভর সশস্ত্র বাহিনী গড়তে সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ
জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি সরকারের এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
আধুনিকায়নের মূল লক্ষ্য ও পদক্ষেপসমূহ:
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি: সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এমন স্তরে উন্নীত করা হবে যাতে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। এর জন্য আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, নৌযান, সাবমেরিন এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজন করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও নতুন ক্ষেত্র: প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং তথ্যযুদ্ধের মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বনির্ভরতা ও 'মেড ইন বাংলাদেশ': দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
কল্যাণ ও মর্যাদা: বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরোত্তর মর্যাদা এবং 'এক পদ, এক পেনশন'-এর মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় বাংলাদেশ আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
সরকারের মতে, এই আধুনিকায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে।